প্রচ্ছদ > লাইফস্টাইল >

ব্যায়াম ছাড়াও ওজন কমাতে সহায়ক হতে পারে যেসব দৈনন্দিন অভ্যাস

article-img

ওজন কমানোর কথা ভাবলেই অনেকের চোখে ভেসে ওঠে জিমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যায়াম করার দৃশ্য। বাড়তি মেদ বা ভুঁড়ি কমাতে নিয়মিত শরীরচর্চা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে ব্যায়ামের পাশাপাশি প্রতিদিনের কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করেও ক্যালোরি গ্রহণ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ওজন কমানোর প্রক্রিয়াকে সহজ করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাস, ঘুম ও দৈনন্দিন জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ব্যায়ামের পাশাপাশি নিচের অভ্যাসগুলোও মেনে চলতে পারেন।

পর্যাপ্ত ঘুমকে গুরুত্ব দিন

ওজন নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের ঘাটতি হলে ক্ষুধা ও খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত হরমোনের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে।

বিশেষ করে কম ঘুম হলে অনেকের উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার ও জাঙ্ক ফুডের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যায়। বিপরীতে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। তাই ওজন কমানোর পরিকল্পনায় ভালো ঘুমকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

কফিতে চিনি কমান

কফি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টি উপাদান এড়িয়ে চলা ভালো। বিশেষ করে ব্ল্যাক কফিতে চিনি না মেশালে বাড়তি ক্যালোরি গ্রহণ কমানো সম্ভব।

শুধু কফি নয়, প্রতিদিনের রান্না ও অন্যান্য খাবারেও অতিরিক্ত চিনি ব্যবহারের অভ্যাস কমিয়ে আনা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন

শরীর সুস্থ রাখতে পানির বিকল্প নেই। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমাতেও সহায়তা করতে পারে। খাবারের আগে এক গ্লাস পানি পান করলে কিছুটা পেট ভরা অনুভূতি তৈরি হয়, ফলে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাবার খাওয়ার সম্ভাবনা কমে।

যারা ঘন ঘন কিছু খেতে চান, তাদের জন্য পর্যাপ্ত পানি পান বিশেষভাবে উপকারী অভ্যাস হতে পারে।

কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন

ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চিনিযুক্ত কোমল পানীয় বাদ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সফট ড্রিঙ্কস ও প্যাকেটজাত মিষ্টি জুসে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চিনি ও ক্যালোরি থাকতে পারে, অথচ এগুলো সাধারণত দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে না।

তাই এসব পানীয়ের পরিবর্তে পানি বা চিনি ছাড়া পানীয় বেছে নেওয়া ভালো। জুসের বদলে সরাসরি একটি ফল খাওয়াও তুলনামূলক ভালো বিকল্প হতে পারে।

জাঙ্ক ফুড থেকে দূরে থাকুন

অতিরিক্ত তেল, লবণ ও ক্যালোরিযুক্ত জাঙ্ক ফুড নিয়মিত খেলে ওজন বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বার্গার, ফ্রাই, ভাজাপোড়া ও বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবারে ক্যালোরির পরিমাণ বেশি হওয়ায় এগুলো নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস ওজন নিয়ন্ত্রণকে কঠিন করে দিতে পারে।

তাই বাড়তি মেদ কমাতে চাইলে জাঙ্ক ফুডের পরিমাণ যতটা সম্ভব কমিয়ে পুষ্টিকর ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবার বেছে নেওয়া ভালো।

সন্ধ্যার নাস্তায় স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিন

সন্ধ্যার ক্ষুধা মেটাতে ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবারের দিকে না গিয়ে তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নেওয়া যেতে পারে। গ্রিন টি, মৌসুমি ফল কিংবা হালকা পুষ্টিকর খাবার এ সময় ভালো বিকল্প হতে পারে।

সব মিলিয়ে, শুধু ব্যায়ামের ওপর নির্ভর না করে পর্যাপ্ত ঘুম, পানি পান, কম চিনি গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস গড়ে তুললে ওজন নিয়ন্ত্রণের পথ সহজ হতে পারে। তবে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সবার শারীরিক চাহিদা এক নয়; প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।